দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্ল্যাংক কার্ডের সংকট ও ছাপানোর যন্ত্রের ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে থাকা উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ড প্রিন্টিং কার্যক্রম আগামী নভেম্বর থেকে পুরোদমে শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য প্রয়োজনীয় কার্ড সংগ্রহের পাশাপাশি প্রিন্টিং কার্যক্রমের সমস্যাও সমাধান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে ৮ কোটি ৭৫ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৮ জনের স্মার্টকার্ড পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ৭ কোটি ৩৬ লাখ ৫৪১ জনের কার্ড। বিতরণের অপেক্ষায় রয়েছে আরও ১ কোটি ৩৯ লাখ ২ হাজার ৪৫৭টি কার্ড। পাঠানো কার্ডের মধ্যে বিতরণের হার ৮৪ দশমিক ০৪ শতাংশ।
দেশে বর্তমানে ভোটার রয়েছেন ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। ইসির গত জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনো চার কোটির বেশি ভোটার স্মার্টকার্ড পাননি। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর, নড়াইল, ঝিনাইদহ, বরগুনা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের সব উপজেলায় স্মার্টকার্ড বিতরণ শেষ হয়েছে। তবে ৪০৪টি নির্বাচনী থানা ও উপজেলার মধ্যে ১১৫টিতে এখনো বিতরণ শুরু হয়নি। অন্য এলাকাগুলোতেও বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
২০০৮ সালে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে নাগরিকদের উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০১১ সালে আইডিইএ প্রকল্প গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। ২০১৫ সালে ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান অবার্থার টেকনোলজিসের সঙ্গে নয় কোটি স্মার্টকার্ড তৈরির চুক্তি করে ইসি। ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর কার্ড বিতরণ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে চুক্তি অনুযায়ী কার্ড সরবরাহ করতে না পারায় ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়।
পরে দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) কাছ থেকে স্মার্টকার্ড সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় কমিশন। আইডিইএ দ্বিতীয় প্রকল্পের আওতায় তিন কোটি ব্ল্যাংক কার্ড সরবরাহের পরিকল্পনা থাকলেও বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ও ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে চুক্তিতে পরিবর্তন আনা হয়। শেষ পর্যন্ত কার্ডপ্রতি ১৭২ টাকা দরে ২ কোটি ৩৬ লাখ কার্ড কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এরই মধ্যে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এক কোটির বেশি ব্ল্যাংক কার্ড সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি কার্ড সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলছে।
এ ছাড়া ব্ল্যাংক কার্ডে তথ্য সংযোজন করে স্মার্টকার্ড ছাপানোর যন্ত্রের ত্রুটিও সমাধান করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘পার্সোনালাইজেশন সেন্টার নিয়ে আমাদের একটা সমস্যা ছিল। আমরা আগামী মাস থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় পার্সোনালাইজেশন সেন্টারে স্মার্টকার্ডগুলো প্রিন্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এমএম/